গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) চলতি বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭ জানুয়ারি। সর্বশেষ এ নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি টনের গড় মূল্য নেমেছে ৪ হাজার ২৯ ডলারে (৭ হাজার ১৪৫ নিউজিল্যান্ড ডলার)। খবর অ্যাগ্রিল্যান্ড, চিজ রিপোর্টার।
নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা। এ প্রতিষ্ঠানের ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য নেমেছে ৩ হাজার ৮০৪ ডলারে (৬ হাজার ৭৫৬ নিউজিল্যান্ড ডলার)।
ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিছাড়া গুঁড়া দুধ। এ সময় পণ্যটির দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২ হাজার ৬৮২ ডলারে (৪ হাজার ৭৬২ নিউজিল্যান্ড ডলার) স্থির হয়েছে।
তবে বছরের প্রথম নিলামে কিছু দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মজারেলা পনির। এ নিলামে পণ্যটির দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ১৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় মাখনের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। টনপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৬ হাজার ৮১৫ ডলারে। জিডিটি নিলামে মাখন গুঁড়া দুধের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে টনে ৩ হাজার ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে এক বিবৃতিতে ফন্টেরার চিফ এক্সিকিউটিভ মাইলস হারেল বলেছিলেন, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এ অঞ্চলে চাহিদা বৃদ্ধি কোম্পানির ব্যবসার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে যেকোনো সময় বৈশ্বিক সরবরাহ ও চাহিদায় বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটতে পারে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
এদিকে গত ৫ ডিসেম্বর ফন্টেরা ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য আবারো ফার্মগেট দুধের মূল্য পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। এ সময় দুধের ফার্মগেট মূল্য কেজিএমএসে (কিলোগ্রাম অব মিল্ক সলিডস) ৯ ডলার ৫০ সেন্ট থেকে ১০ ডলার ৫০ সেন্ট থাকতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, বছরের প্রথম জিডিটি নিলামে মোট ৩০ হাজার ১৫৬ টন দুগ্ধজাত পণ্য বেচাকেনা হয়েছে, আগের নিলামে যা ছিল ৩২ হাজার ১২০ টন।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান রাবোব্যাংক। ব্যাংকটির দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে বৈশ্বিক দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা বা পরিবর্তন দেখা যাবে না। এ সময় সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সুষম সম্পর্ক বজায় থাকতে পারে।
তবে এটি সতর্ক করেছে, বৈশ্বিক দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার গতিশীলতায় ‘মিশ্র’ প্রবণতা রয়েছে। অনেক দেশের অর্থনীতিতে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর এখনো চাপ রয়েছে।
রাবো রিসার্চের সিনিয়র ডেইরি বিশ্লেষক মাইকেল হারভে জানিয়েছিলেন, আরো দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের মজুদ রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এ সময় ভূরাজনীতি, রোগ ও আবহাওয়া বাণিজ্য এবং উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে।